মঙ্গলবার, জুলাই ০৫, ২০২২ | ২০ আষাঢ় ১৪২৯

‘পেগাসাস প্রজেক্ট’ নিয়ে উত্তাল দেশ, এর সাহায্যে মন্ত্রী-বিচারপতি-বিরোধীদের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ


  • Logo
  • সোমবার জুলাই ১৯, ২০২১
‘পেগাসাস প্রজেক্ট’ নিয়ে উত্তাল দেশ, এর সাহায্যে মন্ত্রী-বিচারপতি-বিরোধীদের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ
909 views

২০১৯ সালের পর ফের খবরের শিরোনামে ইজরায়েলের সফটওয়্যার পেগাসাস। এবার বিজেপি-র রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী অভিযোগ তুলে বললেন, পেগাসাস নাকি এবার আড়ি পাতছে দেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ফোনে। পাশাপাশি মোদির মন্ত্রিসভার সদস্যদের ফোনে এবং আরএসএস নেতাদের ফোনেও। এমনকি দেশের একাধিক সাংবাদিক, বিরোধী নেতা-নেত্রী, ব্যবসায়ীদের ফোনেও এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আড়ি পাতা হয়েছে। যদিও কেন্দ্রের সাফাই, এই ধরনের কোনও হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেনি। ভারত একটি মজবুত গণতান্ত্রিক দেশ। তাই এখানে সব নাগরিকের গোপনীয় রক্ষার স্বার্থে ২০১৯-এ পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন বিল আনা হয়েছিল।

তবে এর আগে দুই আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান এবং ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করে জানিয়েছিলেন যে, ইজরায়েলি এই সংস্থা গোটা বিশ্বে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে আড়ি পেতেছিল, সেই তালিকায় ভারতীয় রাজনীতিক-বিচারপতি ছাড়াও সিবিআই, ইডির শীর্ষ অফিসারও আছেন। এমনকি ভারতের মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ কলেও আড়িপাতা হয়েছিল। যদিও গোটা বিষয়টিকেই একটি ‘শক্তিশালী গুজব’ বলে উল্লেখ করেছেন স্বামী। তিনি রবিবার সকালে টুইট করে দাবি করেছেন, কাদের ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে, সেই তালিকা বিস্তারিত পেলেই তিনি প্রকাশ করবেন। টুইট করে পি চিদম্বরমের পুত্র কার্তি চিদম্বরমও লিখেছেন, ‘…পেগাসাস বিস্ফোরণ ঘটাতে চলেছে।’ এই সবটাই আন্দাজ করে বলা হলেও, পত্রিকায় প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এর সবটাই জল্পনা বলেই ভাবা হচ্ছে।

২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম খবরের শিরোনামে আসে পেগাসাস। সেখানে বলা হয়, সারা পৃথিবীর প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের ফোনে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আড়ি পাতা হয়েছিল। যে তালিকায় ছিলেন কূটনীতিক, নেতা, সাংবাদিক ও সরকারি আধিকারিক, গবেষক, দলিত আন্দোলনকারী, সাংবাদিক। তবে সেই সময়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার পেগাসাসের কোনও অনৈতিক ব্যবহার করেনি। পেগাসাস আসলে একটি স্পাইওয়্যার, যা ইজরায়েলে NSO নামের একটি সংস্থার তৈরি। এই স্পাইওয়্যারের সাহায্যে তামাম দুনিয়ার রাজনৈতিক এবং সমাজকর্মীদের ফোন থেকে শুরু হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হয়। ইজরায়েলি কোম্পানির দাবি, তারা শুধুমাত্র সরকারি এজেন্সিকে এই সফটওয়্যার দিয়ে সাহায্য করে। ভারতে কীভাবে তাদের সফটওয়্যার দিয়ে আড়িপাতাছে সেটা তাঁরা জানেন না।

মন্তব্য:

মন্তব্য বন্ধ আছে।

অনুরূপ খবর