মঙ্গলবার, জুলাই ০৫, ২০২২ | ২০ আষাঢ় ১৪২৯

বাদ পড়লো এনআরসি-তে প্রাক্তন বিধায়কও!


  • Logo
  • বুধবার মার্চ ৩১, ২০২১
বাদ পড়লো এনআরসি-তে প্রাক্তন বিধায়কও!
637 views

ভোটের বাজারে এই দল বলে, আমাকে ভোট দেবেন। ওই দলের দাবি, কাজের মানুষকে বিধানসভায় পাঠান। মিনারা বেগম স্বামী, ছেলে ও ছয় মেয়েকে নিয়ে ভালই দিন কাটাচ্ছিলেন। আচমকা এক দিন পুলিশ জানায়, তিনি ‘বিদেশি’। একতরফা রায় দিয়েছে ফরেনার্স ট্রাইবুনাল। তাঁর মা-বাবা-ভাইয়ের নামেও গ্রেফতারির নোটিস এসেছে৷ খবরটা মিনারার বাবার বাড়িতে পৌঁছতে সময় লাগেনি। সেই যে মা-বাবা-ভাই পাড়া থেকেই উধাও হলেন, আজও ফেরেননি। বছর পঞ্চাশের মিনারার পক্ষে তাই আর ভারতীয় নাগরিকত্বের কোনও কাগজ জমা করা সম্ভব হয়নি। যেতে হয় ডিটেনশন সেন্টারে। সঙ্গে তাঁর সাত মাসের শিশুকন্যা। দশ বছর বন্দিজীবন কাটানোর পরে গত বছর করোনার দৌলতে জামিনে মুক্তি পান।

কাছাড় জেলার উধারবন্দের মিনারার মতো ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গিয়েছে সিদ্দেক আলিরও। জানালেন, ১৯৬৫ সাল থেকে ভোট দিয়েছেন। ২০১৬ সালেও ইভিএমে বোতাম টিপেছেন। কিন্তু ২০১৮-র ২০ এপ্রিল পুলিশ তাঁর ভাড়াবাড়ির দেওয়ালে নোটিস সেঁটে দিয়ে যায়। সিদ্দেক তা খেয়ালই করেননি। পরে শুনলেন, সেটিই ছিল ‘বিদেশি’ তকমা দেওয়ার নোটিস। নাম কাটার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায় অসমের দু’বারের বিধায়ক আতাউর রহমান মাঝারভুইয়াকেও। ভোটার তালিকায় অবশ্য তাঁর নামের পাশে ডি বসেনি। এখনও ফরেনার্স ট্রাইবুনালে মামলা শুরু হয়নি।

কিন্তু ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)–তে তাঁর নাম ওঠেনি। সরকার এই এনআরসি গ্রহণে অস্বীকার করায় নির্বাচন কমিশন আতাউরবাবুর মতো ১৯ লক্ষ ৬ হাজার ৬৫৭ জন ‘বাদ পড়া’ ভোটারের সকলের ভোটাধিকার অক্ষুন্ন রেখেছে। আতাউর রহমান জানান, ১৯৭১-র আগের নথি চাইছিলেন এনআরসি কর্তৃপক্ষ। তাঁর নিজের নামেই এমন কত কাগজ! সব জমা করেছেন। পরে আসল নথিও দেখান। এরপরেও বিদেশির তালিকায় ঠেলে দেওয়া হল। তাঁর দুই মেয়ে, এক ছেলে। তিনি বিস্মিত, ওই নথিতেই এক মেয়েকে ভারতীয় বলে মেনে নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

ঘোর কাটে না শিলচর মেডিক্যাল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেবীদাস দত্তেরও। তাঁর নিজের এবং অন্য দুই মেয়ের নাম আছে এনআরসিতে। নেই কেবল দীপশ্রী (ধর)-র। কর্মসূত্রে দীপশ্রী এখন কলকাতায় থাকেন। নেতাজি সুভাষ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ইংরেজি পড়ান। কিন্তু এনআরসিতে নাম থাকার পরও রেহাই নেই কাটিগড়ার মঞ্জু মালাকারের৷ স্ত্রী এবং তিন পুত্রেরও নাম আছে এনআরসিতে৷ ঠাকুরদার ১৯৫৬ সালের নথি যত্নে রাখার ফল মিলেছে এমন যখন ভাবছিলেন, তখনই এক দিন পুলিশ এসে জানিয়েছে তাঁকে ‘বিদেশি’ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে৷ ফরেনার্স ট্রাইবুনালে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে৷ মঞ্জুবাবুর বিশ্বাস হচ্ছিল না৷ বললেন, ‘‘আমার তো এনআরসিতে নাম রয়েছে!’’

মন্তব্য:

মন্তব্য বন্ধ আছে।

অনুরূপ খবর